ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর হামলা

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর হামলা

রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র (ফাইল ফটো)

বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৪ | ০০:৫২

বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে সশস্ত্র দুর্বৃত্তের হামলায় আনসার সদস্যসহ পাঁচ নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন। গত বুধবার রাতে কেন্দ্রের মূল বেষ্টনীর বাইরে ৩ নম্বর টাওয়ার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন আনসার সদস্যরা। পুলিশ এ ঘটনায় ১১ জনকে আটক করেছে।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল সীমানার বাইরে হাজার হাজার টন লোহার রড ও স্ক্র্যাপ পড়ে আছে দীর্ঘদিন। কাঁটাতার দিয়ে সেগুলো ঘিরে রাখা হয়েছে। এলাকাটি পাহারার দায়িত্বে রয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রি সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড (এসএসএসএল)।

নিরাপত্তাকর্মীরা জানান, বুধবার রাত ১১টার দিকে ৩৫-৪০ জনের একদল দুর্বৃত্ত ৩ নম্বর টাওয়ারের কাছ থেকে লোহার রড ও স্ক্র্যাপ নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। নিরাপত্তাকর্মীরা এ সময় বাধা দিলে তারা উল্টো তাদের ওপর চড়াও হয়। আটকে রেখে মারধর করে। মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

খবর পেয়ে আনসার সদস্যরা এগিয়ে গেলে তাদের ওপরও চড়াও হয় চোররা। এক পর্যায়ে আনসার সদস্যরা ৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। দুর্বৃত্তের হামলায় আহত হয়েছেন পাঁচ নিরাপত্তাকর্মী। তারা হলেন– নিরাপত্তা সুপারভাইজার আকরাম (৫৫), সাইদুল ইসলাম (৩৭), মিন্টু বৈরাগী (৪০) ব্রজেন মণ্ডল (৩০) ও আনসার সদস্য কামাল পাশা (৩৮)। পরে উদ্ধার করে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। এই সংঘর্ষের মধ্যেই বেশকিছু মালামাল নিয়ে জঙ্গলে পালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

তবে বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের দাবি, ’৫০-৬০ জনের সশস্ত্র দুর্বৃত্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রের পেছনের নদী দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দিলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।’
বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি করা হয়েছে।

বিশাল এলাকা অরক্ষিত
১৩২০ মেগাওয়াটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ভারত-বাংলাদেশের যৌথ মালিকানার প্রতিষ্ঠান। এর মূল সীমানা প্রাচীর কংক্রিটের। তবে এর বাইরে বিশাল এলাকা শুধু কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। সেখানে রয়েছে ছোট-বড় তারের ড্রাম, রড, যন্ত্রাংশের বাক্স, কনটেইনার ইত্যাদি। দীর্ঘদিন এগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

এলাকাটি পাহারার দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তাদের কাছে কোনো অস্ত্র নেই। শুধু লাঠি হাতে ঘোরাফেরা করেন তারা। নিরাপত্তাকর্মীরা জানান, প্রায় প্রতি রাতেই চোর আসে, কিছু না কিছু নিয়ে যায়। পাশে ঘন ছনবন, রাতে ভালো দেখাও যায় না। তাদের হাতে অস্ত্র থাকে। বাধা দেওয়ার পরও বুধবার রাতে তারা প্রায় এক টন লোহা নিয়ে চলে যায়।

সন্দেহে নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীও
অভিযোগ রয়েছে, মালামাল চুরির ঘটনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের লোকজনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তাই মাঝেমধ্যেই চুরির ঘটনা ঘটছে। কেন্দ্রের সুরক্ষিত এলাকা থেকে কয়লা চুরির ঘটনাও ঘটেছে। বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. রাসেলুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্রটি অরক্ষিত হওয়ায় প্রায় চুরির ঘটনা ঘটে। নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীও এর সঙ্গে জড়িত। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’

আটক ১১ জন, মামলার প্রস্তুতি
বুধবার রাতের ঘটনা সম্পর্কে বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ’৩০-৪০ জনের চোর দলটি মালামাল নিয়ে যাওয়ার সময় নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দেয়। এ সময় তাদের ওপর চড়াও হয় চোররা। পরে আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থলে এলে তাদের ওপরও হামলা করে।’ তিনি জানান, আনসার সদস্যরা ফাঁকা গুলি ছুড়লে চোররা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ গিয়ে ১১ জনকে আটক করে। পুলিশ সুপার বলেন, ‘জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিক তদন্তে আমরা জেনেছি, ঘটনাটি ডাকাতির ঘটনা নয়।’ তদন্তের কথা বলে আটকদের নাম প্রকাশ করেননি তিনি।
বিআইএফপিসিএলের মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মঙ্গলা হরিন্দ্রান বলেন, ‘আহত নিরাপত্তকর্মীরা এখন শঙ্কামুক্ত। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’

খোলা জায়গায় মালপত্র
খোলা জায়গায় মালপত্র ফেলে রাখার বিষয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও নিরাপত্তা) মো. অলিউল্লাহ বলেন, ‘যন্ত্রাংশসহ প্রায় সব মালপত্র এখন বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল সীমানার ভেতরে। বাইরে কিছু স্ক্র্যাপ আছে, যা বিক্রির প্রক্রিয়া চলছে।’

নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে ৩০৫ জন নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে ব্যাটালিয়ান আনসার ৫০ জন, পুলিশ সদস্য ১৮ এবং দুটি বেসরকারি সিকিউরিটি সার্ভিসের ২৩৭ জন। এই নিরাপত্তা কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বিদ্যুৎ সচিব হাবিবুর রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার সমকালকে বলেন, ‘কোনো ঘাটতি নেই, রামপালে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা রয়েছে। সেখানকার নিরাপত্তা কর্মীরা দক্ষ বলেই তেমন কিছু হয়নি। তা না হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটত।’

 

আরও পড়ুন

×