অভিভাবকহীন থাকবে কতদিন?
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান প্রাচ্যের ভেনিস বরিশালে অবস্থিত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চার মাস উপাচার্য না থাকার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা কার্যক্রমের স্থবিরতার যে খবর বুধবারের সমকালে প্রকাশ হয়েছে, তা হতাশাজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, যেখানে হাজারো শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও কর্মচারীর স্বার্থ জড়িত, সেখানে মাসের পর মাস এমন অভিভাবকহীন থাকা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কেবল শিক্ষা কার্যক্রম ঠিকমতো না চলাই নয় বরং উপাচার্য না থাকায় আরও নানা সমস্যা মাথা গজিয়েছে। শিক্ষকদের দ্বন্দ্ব বেড়েছে, এমনকি শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যে দেয়াল লিখনের বিষয় সমকালের প্রতিবেদনে এসেছে, তা আমাদের বিস্মিত না করে পারে না। উপাচার্য না থাকার প্রভাব পড়েছে শ্রেণি কার্যক্রমের ওপর। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়টির নির্ধারিত ভর্তি পরীক্ষা নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। সেখানে রেজিস্ট্রারের পদও শূন্য। আরও আশ্চর্যের বিষয়, বর্তমানে যে ট্রেজারার উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে রুটিন দায়িত্ব পালন করছেন, তার মেয়াদ কয়েকদিনের মধ্যেই শেষ হচ্ছে। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়টি চলবে কীভাবে? আমরা এর আগেও দেখেছি, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদ শূন্য হলেও পরবর্তী উপাচার্য নিয়োগ দিতে অনেক সময় লেগে যায়। অবশেষে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে সংকট দেখা দেয়, ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে আসে, তখনই কি-না কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। এটি কখনোই ভালো সংস্কৃতি নয়। আমরা মনে করি, প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারেই কর্তৃপক্ষের, বিশেষভাবে বললে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নজর থাকা দরকার। অন্তত ইউজিসিকে এ ব্যাপারে তৎপর হতে হবে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির মেয়াদ কতদিন রয়েছে, মেয়াদ কাছাকাছি এলে পরবর্তী উপাচার্য নিয়োগের ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে উপাচার্যবিরোধী বিক্ষোভ আমরা দেখছি। সেখানে ইউজিসির ত্বরিত ভূমিকা চাই। কোনোভাবেই যেন একটি বিশ্ববিদ্যালয় এক দিনের জন্যও অভিভাবকহীন হয়ে না পড়ে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে শূন্যতা তৈরি হলে সঙ্গে সঙ্গেই কিংবা পূর্বেই তার উত্তরসূরি নিয়োগের যে ঐতিহ্য রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সে সংস্কৃতি কেন চালু হবে না! আমরা দেখতে চাই, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুততম সময়ে উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির সংকট নিরসনে কর্তৃপক্ষ উদ্যোগী হবে।
